প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে রায়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ গত ২ জুলাই এই রায় প্রদান করেন, যা রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এই রায়ের ফলে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনের পথ প্রশস্ত হলো।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের তুলনায় জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থাকবেন। অন্যদিকে, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের পরে নির্ধারিত হবে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের অতীত চাকরিকালের ৫০ শতাংশ ‘কার্যকর চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য হবে। এই সময়কাল তাদের পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া বিধিমালা অনুযায়ী, সরকার নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই শিক্ষকদের এই অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে, ২০১৩ সালের বিধিমালার ৯(১) বিধিতে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিচে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি অযৌক্তিক বা স্ববিরোধী নয়। অথচ হাইকোর্ট বিভাগ এই অংশটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছিলেন। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে সরকারের আপিল মঞ্জুর করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের পর শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি বিরোধের সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালে রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন, যার বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ আপিল করলে ২০২২ সালে তা শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়। চূড়ান্ত রায়ে এখন জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত আইনি অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হলো।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো